জরিপ পরিচিতি ও মেথডোলজি
এই জরিপটি বাংলাদেশের প্রধান প্রধান শহর ও মফস্বল এলাকা মিলিয়ে মোট ২০টি জেলায় পরিচালনা করা হয়েছে। দৈবচয়ন (Random Sampling) পদ্ধতিতে নির্বাচিত সংসদীয় আসনগুলো থেকে সরাসরি ডাটা সংগ্রহ করা হয়েছে।
বি:দ্র: আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় এই জরিপ ও বিশ্লেষণে 'আওয়ামী লীগ'-কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
নমুনা সংগ্রহের এলাকা (২০টি জেলা ও নির্দিষ্ট আসনসমূহ)
- ঢাকা বিভাগ:
- ঢাকা-১০, ঢাকা-১৩
- ঢাকা-৬, ঢাকা-৫
- নারায়ণগঞ্জ-৪, গাজীপুর-২
- ফরিদপুর-৩, টাঙ্গাইল-৫
- চট্টগ্রাম বিভাগ:
- চট্টগ্রাম-১০, চট্টগ্রাম-৮
- কুমিল্লা-৬, নোয়াখালী-৪
- ফেনী-২, কক্সবাজার-৩
- রাজশাহী ও রংপুর:
- রাজশাহী-২, বগুড়া-৬
- পাবনা-৫, রংপুর-৩
- দিনাজপুর-৩
- অন্যান্য বিভাগ:
- খুলনা-২, যশোর-৩
- সিলেট-১, বরিশাল-৫
- ময়মনসিংহ-৪
জনমিতিক বিশ্লেষণ
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের লিঙ্গভিত্তিক বিভাজন। সমাজের সকল স্তরের মানুষের মতামত নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
রাজনৈতিক সমর্থন (শতকরা হার)
জাতীয় পর্যায়ে দলগুলোর জনপ্রিয়তার চিত্র। বিএনপি এবং জামায়াত জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি সমর্থনের চিত্র দেখা যাচ্ছে, যেখানে বিএনপি সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে।
- বিএনপি ৪৭%
- জামায়াত ৪৪%
- ইসলামী আন্দোলন ৬%
আঞ্চলিক বিশ্লেষণ
ভৌগোলিক অবস্থানভেদে ভোটারদের পছন্দের ভিন্নতা
মফস্বল ও শহরতলী
জেলা শহর ও উপশহর এলাকা
এই অঞ্চলগুলোতে বিএনপি-জোট শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তাদের সাংগঠনিক তৎপরতা এবং ভোটারদের ঝোঁক এই দলটির পক্ষে ভালো ফলাফলের ইঙ্গিত দেয়।
ঢাকা মহানগর
রাজধানী ও মেট্রোপলিটন এলাকা
ঢাকার রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ। প্রথাগত দলের বাইরে তরুণ ক্যান্ডিডেটদের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। শহুরে ভোটাররা নেতৃত্বে পরিবর্তন খুঁজছেন।
গ্রামাঞ্চল
প্রত্যন্ত গ্রাম ও ইউনিয়ন পর্যায়
দেশের বিশাল গ্রামীণ ভোট ব্যাংকে জামায়াত-জোট এগিয়ে আছে। তাদের তৃণমূল পর্যায়ের সাংগঠনিক ভিত্তি এখানে বেশ শক্তিশালী।
গণভোট: সচেতনতা ও বিভ্রান্তি
আমাদের জরিপে একটি চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। যদিও অনেকেই সংস্কারের পক্ষে, তবুও গণভোটের প্রক্রিয়া ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে একটি উল্লেখযোগ্য অংশের মানুষের মধ্যে স্পষ্ট ধারণা নেই।
অজানা তথ্য:
২০% মানুষ জানেন না গণভোটের উদ্দেশ্য বা মোটিভ আসলে কী।
গণভোটের উদ্দেশ্য: রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলোর আইনি বৈধতা নিশ্চিত করা এবং জনগণের প্রত্যক্ষ মতামত গ্রহণ করা।
গণভোট সম্পর্কে সচেতনতা
"নির্বাচনের দিনেই ভোটকেন্দ্রে ব্যালটের মাধ্যমে 'হ্যাঁ' বা 'না' ভোট গ্রহণ করা হবে।"
জরিপের মূল প্রশ্ন ও বিশ্লেষণ
গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের নিচের প্রশ্নগুলো করা হয়েছিল। উত্তরগুলো ভোটারদের মানসিকতার গভীর বিশ্লেষণ প্রদান করে।
প্রশ্ন ১: দলীয় সমর্থন ও ভোট প্রদান
"আগামী জাতীয় নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ভোট দেওয়ার কথা ভাবছেন?"
উদ্দেশ্য: এই প্রশ্নের মাধ্যমে আমরা বিএনপি, জামায়াত ও অন্যান্য দলের জনপ্রিয়তার হার (৪৭%, ৪৪% ইত্যাদি) নির্ণয় করেছি।
প্রশ্ন ২: প্রার্থীর যোগ্যতা বনাম দলীয় প্রতীক (Analytical)
"আপনার এলাকায় প্রার্থীর দলীয় প্রতীকের চেয়ে ব্যক্তিগত যোগ্যতা বা তারুণ্য কি বেশি গুরুত্বপূর্ণ?"
বিশ্লেষণ: বিশেষ করে ঢাকা ও মেট্রোপলিটন এলাকার ভোটারদের মনোভাব বুঝতে এই প্রশ্নটি করা হয়েছিল। ফলাফলে দেখা যায়, শহুরে তরুণরা প্রতীকের চেয়ে প্রার্থীর যোগ্যতাকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন।
প্রশ্ন ৩: ভোটারদের প্রধান অগ্রাধিকার (Analytical)
"ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে আপনার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু কোনটি? (ক) দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, (খ) দুর্নীতি দমন, নাকি (গ) আইন-শৃঙ্খলা?"
বিশ্লেষণ: মফস্বল ও গ্রামাঞ্চলে 'দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ' প্রধান ফ্যাক্টর হিসেবে উঠে এসেছে, অন্যদিকে শহরে 'দুর্নীতি দমন' ও 'সংস্কার' বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
প্রশ্ন ৪: গণভোট (হ্যাঁ / না)
"নির্বাচনের দিনেই ব্যালট পেপারে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হলে, আপনি কি 'হ্যাঁ' নাকি 'না' ভোট দেবেন?"
ফলাফল: এই সরাসরি প্রশ্নের উত্তরে ৬৯% মানুষ 'হ্যাঁ' (সংস্কারের পক্ষে) মত দিয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও গণভোট
জনগণ কি রাষ্ট্রীয় কাঠামোগত সংস্কার চায়? আমাদের জরিপে উঠে এসেছে এক স্পষ্ট জনমত। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে।
"জরিপকৃত জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ রাষ্ট্রীয় সংস্কারের পক্ষে এবং এ বিষয়ে গণভোটের জন্য ইতিবাচক মত প্রকাশ করেছেন।"
ভোট গ্রহণের পদ্ধতি:
নির্বাচনের দিনেই এই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ভোটাররা ব্যালটে 'হ্যাঁ' অথবা 'না' ভোট দিয়ে তাদের রায় জানাবেন।
সংস্কারের পক্ষে জনমত